ফারুক আব্বাসীর ত্রাসের রাজত্বে জিম্মি ছিলো এলাকাবাসী।

ফারুক আব্বাসীর ত্রাসের রাজত্বে জিম্মি ছিলো এলাকাবাসী।

একাধিক হত্যা মামলার আসামী ফারুক আব্বাসীর ত্রাসের রাজত্বে জিম্মি ছিলো এলাকাবাসী
মেঘনায় মানববন্ধন বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা…

এমএ কাসেেম ভূইয়া (হোমনা,কুমিল্লা)
কুমিল্লার মেঘনায় ভাওরখোলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফারুক আব্বাসীর ত্রাসের রাজত্বে জিম্মিদশায় ছিলো এলকাবাসী। লাইসেন্সধারী অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও নির্যাতন ছিলো তার নিত্যদিনের রুটিন করা কর্মকান্ড। ঢাকা-মেঘনা সড়কের কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে মঙ্গলবার দুপুরে মেঘনা মানবাধিকার সংগঠন ও ভাওরখোলা ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে এসব জানায় বক্তারা।

https://youtu.be/Nfopdq
গত ১৯ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাওরখোলা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে ফারুক আব্দাসির নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে আঃ সালামের স্ত্রী নাজমা বেগমকে (৫৫) মধ্যযুগিয় কায়দায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার বিচার ও খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ মানববন্ধন করে বিক্ষোব্দ সর্বস্তরের জনগণ। সড়ক অবরোধ করে ২ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে যানচলা বন্ধ হয়ে অচল হয়ে পরে মেঘনা-ঢাকা আঞ্চলিক মহা সড়ক।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে ভাওরখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমা হত্যা মামলার প্রধান আসামী ফারুক সরকার আব্বাসীসহ সকল হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ১৮০দিনের মধ্যে মামলাটির বিচার করার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. লিটন আব্বাসী।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, মেঘনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শফিকুল আলম শফিক, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল্লাহ মিয়া রতন সিকদার, কমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পরিষদের সদস্য নাছির উদ্দিন শিশির, যুগ্ম-সম্পাদক গোলাম ফারুক রানা, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মোতাহার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিলন সরকার, আওয়ামীলীগ নেতা মো. সিরাজসহ উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার বিভিন্ন নারী-পুরুষ।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৮ সালে রাজধানীর বনানীতে আলোচিত চিত্রনায়ক সোহেল চৌধূরী হত্যা মামলার চার্জসিটভূক্ত এবং নারায়নগঞ্জে জোড়া শিশু হত্যার আসামী চেয়ারম্যান ফারুক আব্বাসী লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করায় এলাকার সাধারণ মানুষ সবসময়ই ভয়ে থাকেন। ২০১৯ সালে ভাওরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৮জন সদস্য তার অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। একই বছরের ২৭ অক্টোবর চেয়ারম্যানকে অপসারনের দাবিতে ভাওয়ারখোলা-মেঘনা সড়কে মানববন্ধনও করেন এলাকাবাসী। ফারুক আব্বাসী জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও আওয়ামীলীগের কোন সংগঠনে সদস্য পদ নেই বলে নেতৃবৃন্দ জানান। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা থাকা সত্ত্বে এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সুপারিশ প্রাপ্ত না হয়েও গত ইউপি নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন রহস্যজনকভাবে। তবে জনপ্রতিনিধি হয়েও কোন পরিবর্তন আসেনি, বরং বৃদ্ধি পেয়েছে তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আর ত্রাসের রাজস্ব শুক্রবারের ঘটনা তারই প্রমান দাবি করেন বক্তারা। তারা বলেন, সন্ত্রাসীর পরিচয় একটাই সে সন্ত্রাসী। তার কোন দল নেই। ফারুক আব্বাসী পুলিশের খাতায় তালিকাভুক্ত একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজ ও খুনি। পিবিআইসহ পুলিশের সিনিয়র পর্যায়েও তার এহেন কর্মকান্ডের সত্যতা রয়েছে বলে নেতৃবৃন্দ জানান এবং তাকেসহ তার সকল সহযোগিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি এলাকাবাসীর।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার ঢাকা থেকে মেঘনার ভাওরখোলা নিজ গ্রামের একটি বিয়েতে দাওয়াত খেতে এসে ফারুক আব্বাসীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ওই গ্রামের আঃ সালামের স্ত্রী নাজমা বেগম। পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাম দা, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে এবং মধ্যযুগিয় কায়দায় নির্মমভাবে এলোপাতারী কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে নাজমা বেগমকে। তাকে বাঁচাতে এসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নাজমার স্বামী আব্দুস সালাম (৬০) ও আলাউদ্দিনের ছেলে ফারুকসহ (৪৫) আরো ২জনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় ভর্তি করানো হয়েছে।
ঘটনার দিন রাতেই সিনিয়র পুলিশ সুপার (এএসপি সার্কেল হোমনা) মো. ফজলুল করিমের নেতৃত্বে ফারুক আব্বাসীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রাম দা, ছুড়ি-কান্তাসহ বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে এবং দেলোয়ার নামে একজনকে গ্রেফতার করে। ঘটনার বিষয়ে মেঘনা থানায় ফারুক আব্বাসীকে প্রধান আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

READ  হোমনায় লকডাউন অমান্য করায় ১০ জনকে অর্থদন্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *